ভারতের রাজস্থানে মাউন্ট আবু পর্বত সাগরপৃষ্ঠ থেকে ১,৭২২ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত । এটি ভারতের উত্তর-পশ্চিমে রাজস্থান রাজ্যের সিরোহি জেলায় অবস্থিত। এর চতুর্দিক সৌন্দর্যমন্ডিত আরাবল্লী পর্বতমালা বিশাল জায়গা দখল করে আছে। এজন্য এ শহরকে পাথরের শহরও বলা হয়।
প্রাচীন কালে এটি ”অর্বুদাঞ্চল” নামে পরিচিত ছিল। এর স্থানীয় অধিবাসী হিসেবে একমাত্র গুর্জ উপজাতীয়দেরই মনে করা হয়।তখনকার দিনে ১৩১১ সালে হিন্দু শাসক রাও লাম্বা মাউন্ট আবু পর্বতের উপর আধিপত্য বিস্তার করেন। পরবর্তীসময়ে কাল পরিক্রমায় ব্রিটিশদের হাতে এর দখলদারীত্ব চলে যায়।
আরো পড়ুন⇨সত্যমান ডাঙী উৎসব ভ্রমণ
আরো পড়ুন⇨দুর্গা পূজার ইতিহাস
এমনকি মুঘলরাও পাথরের শহর “অর্বুদাঞ্চল” দখলদারীত্ব থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। তখন ব্রিটিশরা মাউন্ট আবু পাহাড়কে পর্যটকদের আকর্ষণ ও ভ্রমনের জন্য সৌন্দর্য্য মন্ডিত ও উপযোগী করে গড়ে তোলে। এটি আবার সেসময়ে রাজপুতানা রাজ্যের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী হিসেবে সবার নজর কেড়ে নেয়।
এখানে ভ্রমণ কেন এত উপযোগী
এটি গ্রীষ্মকালের প্রখর তাপদাহ থেকে বাঁচার একটি উপযোগী স্থান। এ জায়গায় নদী, হ্রদ, জলপ্রপাত এবং চিরহরিৎ অরণ্য বিদ্যমান থাকায় একে "মরুভূমিতে মরুদ্যান" নামে আখ্যায়িত করা হয়। এখানে আবু হিল উপজাতীয়দের বাড়ি, ব্রিটিশদের দ্বারা নির্মিত বিলাসবহুল ও সুসজ্জিত প্রাসাদ ,যাতে রয়েছে বিভিন্ন রংগের ও বিভিন্ন রকমের হলিডে কটেজ, হিন্দু ও জৈন সম্প্রদায়ের মন্দির,খুব কাছেই রয়েছে অচলগড় ফোর্ট ,সানসেট পয়েন্ট, নাক্কি হ্রদ ও ভ্রুদিয়া জলপ্রপাত।
এখানে গেলে পাবেন ভেষজ ও ঔষধি গাছের সমারোহ আর উদ্ভিদ ও প্রাণীর সাক্ষাত দর্শন।আর মাঝে মাঝে অরণ্য মাঝে দেখতে পাবেন খট্টাশ, নেকড়ে, হায়না,শিয়াল,সজারু,ধূসর রংগের জংলী পাখি,বন্য শুঁয়োর,সাম্বার হরিন,লেঙুর ও আরো অনেক কিছু।
গুরু শিখর শৃঙ্গ আরাবল্লী পর্বতশ্রেণির সবচেয়ে উঁচু পর্বত।তখনকার দিনে এই শৃঙ্গের কাছে গুরু দত্তাত্রেয় নামে একটি মন্দির আছে যাকে সেখানকার অনেকেই ব্রহ্মা,বিষ্ণু,শিব পূর্ণাবতার “ভগবান” বলে বিশ্বাস করেন।
তাছাড়া মহাদেবের সঙী নন্দী ও বৃষ এর একটি বিরাট ভাস্কর্য্যও রয়েছে যার ওজন চার টন এবং এটি সোনা,রূপা,তামা,পিতল ও দস্তা এই পঞ্চ ধাতুর সংমিশ্রণে গঠিত।
.png)