কমলা চেনে না বা খায় না এমন লোক খুব কমই আছে। এর রস শিশু থেকে সবারই উপভোগ্য ও টক-মিষ্টি স্বাদযুক্ত একটি জনপ্রিয় পানীয়। আমরা সাধারণত হাত বা ব্লেন্ডার মেশিন দিয়ে অতি সহজেই এই রসাল জুস বা পানীয় তৈরি করতে পারি।
এটি গ্রীষ্মের প্রখর রোদে ঠান্ডা ও সতেজ থাকার জন্য ব্যবহার করা হয় আবার অতিথি আপ্যায়নেও ।কিন্তু আপনি জানেন কি এই রসাল জুস বা পানীয় বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ ও শরীরকে শক্তশালী করতে অত্যন্ত কার্যকরী ভুমিকা রাখে ।
শরীরকে সুস্থ-সবল এবং রোগ প্রতিরোধে
এই জুস বা রসে ভিটামিন সি থাকায় এর অ্যাসকরবিক এসিড গুলো কোলাজেন উপাদানের মাধ্যমে শরীরের ইমিউন সিস্টমকে শক্তিশালী করে , বিভিন্ন কোষের টিস্যু গুলো বৃদ্ধিতে সাহায্য করে,শরীরকে সুস্থ-সবল এবং রোগ প্রতিরোধে বিশেষ ভাবে সাহাযা করে ।
কিডনির পাথর প্রতিরোধে কমলা
কিডনিতে পাথর মানে ছোট ছোট খনিজ জড়ো হয় ফলে প্রস্রাব নিম্নমুখী নির্গমন না হয়ে প্রস্রাবের দরজায় তীব্র ব্যথা, রক্তযুক্ত প্রস্রাব এবং বমি বমি ভাব অনুভুত হয় । কিন্তু কমলার রস প্রস্রাবের PH হরমোনকে বাড়িয়ে দিয়ে প্রস্রাবকে ক্ষারীয় করে তোলে। এই ক্ষারীয় উপাদান প্রস্রাবের PH হরমোন কিডনিতে পাথরের বিকাশ রোধে পর্যাপ্ত কাজ করে।
আরো জানুন ➩9 foods keep you alive the longest?
শরীরের ওজন কমাতে ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে
কমলার রস পরিপূর্ণতায় ভরপুর। রস যদিও মিষ্টি তবুও এতে চর্বি কম আছে আর সুষম গ্লাইসেমিক সূচক কম থাকে। তাছাড়া ডায়াবেটিস রোগীদের কমলা লেবু খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় কারণ এতে ফাইবার থাকে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ এই । আবার কমলা লেবুর রস একটি জলখাবারের জন্য কম চিনিযুক্ত ডায়েট হিসেবে পরিচিত।
ত্বকের যত্নে কমলার রস
যারা শরীরের প্রতি ও ত্বকের যত্নে আগ্রহী তাদের ক্ষেত্রে প্রয়োজন কমলালেবুর রস । কমলালেবুতে ভিটামিন সি এবং ই থাকায় ত্বকের কোষ গঠনে সাহায্য করে। আমরা প্রতিনিয়ত কমলার রস পান করলে তখন আমাদের শরীরের কোলে এবং দাগের ব্যাপারে ভিটামিন সি এবং ই তৈরি হওয়া দাগ কমাতে সাহায্য করে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলিকে পূনর্গঠন করে ।
ভিটামিন সি এবং ই রোদে পোড়া ভাব কমিয়ে ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে দ্রুত নিরাময়ে সক্ষমতা অর্জন করে। তাছাড়া এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং সাইট্রিক অ্যাসিড দুটোই থাকায় কমলার রসে একটি অ্যান্টি-এজিং এফেক্ট সৃষ্টি হয়।কমলার রস নিয়মিত পান করলে শরীরে বলিরেখা কম দৃশ্যমান হয় ফলে শরীরের ত্বক মসৃণ ও মোলায়েম হয়।
তাই বোতল জাত জুস পান না করে ১০০% প্রাকৃতিক তাজা জুস পান করুন কারণ বাজারের বোতলজাত জুসে সাধারণত কিছু যুক্ত শর্করা থাকে যা আপনার শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় বা পর্যাপ্ত নয়।
